বন্ধ করুন
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর জীবন ও শিক্ষা
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর জীবন ও শিক্ষা


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট:
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর জীবন ও শিক্ষা
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর জীবন ও শিক্ষা
Featured Image

বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতি বছর হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে পবিত্র ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ পালন করে। এই দিনটি মূলত ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক রাহবার ও সংস্কারক বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।

'ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম' শব্দটি আরবি ও ফারসি শব্দের সংমিশ্রণে গঠিত। 'ফাতেহা' অর্থ কোনো মহান আত্মার উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানো এবং 'ইয়াজদাহম' শব্দের অর্থ এগারো। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি ৯১ বছর বয়সে এই মহান অলী বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭১ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশলতিকা পিতার দিক থেকে হযরত ইমাম হাসান (রা.) এবং মাতার দিক থেকে হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাধ্যমে সরাসরি নবী করীম (সা.)-এর পবিত্র নসবনামার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

তিনি ছিলেন একাধারে যুগশ্রেষ্ঠ মুফতি, মুহাদ্দিস ও সুফিসাধক। মৃতপ্রায় সমাজকে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করার কারণে তাঁকে 'মহিউদ্দিন' বা 'দ্বীনের জীবনদানকারী' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘কাদেরিয়া তরিকা’ আজও বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের আত্মিক তৃষ্ণা নিবারণ করছে।

বাগদাদের মাদরাসায় তিনি প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে কুরআন, হাদিস ও ফিকহের পাঠ দিতেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সংকলন 'ফুতুহুল গাইব' এবং 'গুনিয়াতুত তালেবীন' আজও মানবজাতির হেদায়েতের অমূল্য গ্রন্থ। তাঁর সুমহান দাওয়াতে হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেন।

তাঁর শৈশবের একটি ঘটনা আজও বিশ্বজুড়ে সত্যবাদিতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ যাওয়ার পথে ডাকাতদের কবলে পড়লে তিনি মায়ের অসিয়ত অনুযায়ী নিজের কাছে থাকা ৪০টি স্বর্ণমুদ্রার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তাঁর এই সত্যনিষ্ঠা দেখে ডাকাত সর্দার অনুতপ্ত হয়ে দলবলসহ তওবা করে ইসলামের পথে ফিরে আসে।

আধ্যাত্মিক জগতে তাঁর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সুউচ্চ। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমার এই পদযুগল প্রত্যেক আল্লাহর অলীর ঘাড়ের ওপর অবস্থিত।” তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্বকে সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-সহ সমসাময়িক যুগের সমস্ত আউলিয়া কেরাম বিনম্র চিত্তে স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা আউলিয়াদের প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন যে, যারা আল্লাহর বন্ধু তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। এছাড়া হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর কোনো অলীর সঙ্গে শত্রুতা করবে, তিনি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।

বর্তমানে মুসলিম সমাজ এই দিবসটি আত্মশুদ্ধি ও আউলিয়া কেরামের আদর্শকে জীবনে ধারণ করার দিন হিসেবে পালন করে। ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ-কিয়াম এবং কুরআন খতমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বড় পীর সাহেবের ত্যাগের মহিমা ও সুন্নাহর প্রতি তাঁর পূর্ণ আনুগত্যকে স্মরণ করা হয়।