জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর এই ভাষণের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল কক্ষ ত্যাগ করে এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। এরদোয়ান ফিলিস্তিনের গাজাকে আমাদের যুগের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এরদোয়ান জাতিসংঘেরও সমালোচনা করে বলেছেন যে সংস্থাটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জানান, ফিলিস্তিন, লেবানন এবং সুদানে জাতিসংঘ অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং রক্তক্ষরণ দেখছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় তিনি অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেননি, যার ফলে তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকবে বলে এরদোয়ান উল্লেখ করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রসঙ্গ তোলেন। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দল অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর দ্বিতীয় পর্যায় মেনে নিলেও ইসরায়েল গাজায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে না বলে তিনি জানান। গাজার পরিস্থিতি ছাড়াও তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন এবং ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে যুদ্ধ সমাপ্তির আশা প্রকাশ করেন।
প্রাক্তন জাতিসংঘ কর্মকর্তা সালমান শায়খ এরদোয়ানের বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সঠিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে জানান, গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তুরস্ক একটি অপরিহার্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন ভূখণ্ড ও সংস্থায় ভূমিকা পালন করছে।