তীব্র জ্বালানি সংকট এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইরান সরকার সরকারি কর্মী ও নাগরিকদের জন্য ব্যয় সংকোচনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে নগদ অর্থ সংকটে থাকা সরকার এক বছরেরও কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি কোটার তৃতীয় স্তরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে প্রতি মাসে ১১০ লিটার বা ২৯ গ্যালনের বেশি পেট্রোল ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানুষকে দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আমদানি করা গাড়ি এবং অন্যান্য কিছু ক্যাটাগরির গাড়িও সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি স্তরের সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে।
ইরানি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে, যা গত ২২ আগস্ট শেষ হয়েছে, দৈনিক গড় পেট্রোল উৎপাদন ছিল ১২২ মিলিয়ন লিটার এবং ব্যবহার ছিল ১৩২ মিলিয়ন লিটার। এটি মূলত চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার ঘাটতি স্পষ্ট করে তোলে। গত জুলাই মাস থেকে ইরানের দক্ষিণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে জ্বালানি আমদানি বন্ধ রয়েছে, যা অতীতে এই ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করেছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে সুপারট্যাংকারের মাধ্যমে তেল রপ্তানিও বন্ধ থাকায় ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার আয় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এক বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে এবং মার্চ থেকে জুনের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি ১০.১ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ ২৬.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলোকে পেট্রোল, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে সরকারি অফিসগুলোর কাজের সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকি চুক্তিবদ্ধ সময় ঘরে বসে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রশাসন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংগঠনের উপপ্রধান জাবিহোল্লাহ সালমানি জানান, তাদের বেতনের তালিকায় ২৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। তবে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও বর্তমান সংকটের কারণে অনেক নাগরিক এই বিশাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন সরকারের এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, বরং এটি এক ধরণের সংকট নিয়ন্ত্রণ। এদিকে গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মেট্রো ও বাস সেবা বিনামূল্যে ঘোষণা করা হয়েছে।