টানা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এই মুহূর্তে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সাত দশমিক ৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক আট শতাংশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ দশমিক ছয় শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ৫৮ দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনدেনে নিবিড় নজরদারির ফলে দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থানে উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে, যা আগের বৈদেশিক মুদ্রার চাপের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি টাকার শক্তিশালী হওয়া দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আমদানি উপকরণের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমবে। এতে ব্যবসায়ীদের আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যয়ের চাপও কমতে পারে।