দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন নামের এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রোববার বিকেলে ঢাকায় সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু এতদিন টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এই সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো এবং টিকা নেওয়ার উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতার কারণে নিউমোনিয়াসহ নানা গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে উভয় রোগের চিকিৎসায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং দেশে স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে ডেঙ্গুর অধিকাংশ চিকিৎসা উপজেলা পর্যায়েই দেওয়া সম্ভব।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রায় ৪৩ লাখ ডোজ এমআর টিকা দেশে এসেছে। বর্তমানে পুরো দেশে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শিশুদের হামের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।