কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় শাহরিয়া আনাসসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের আগে ফেইসবুকে শোক প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন আনাস, যেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তার পরিচয় ও কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরা হয়। তিনি পোস্টে লেখেন, মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা, আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।
এর আগে গত শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়ে আর ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন এবং পুলিশ জানায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল।
নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিন নামের এক তরুণকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাসসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়। স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিল এবং তার সাথে থাকা মায়ের আইফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।