বন্ধ করুন
আওয়ামী লীগের হত্যা মামলার আসামি কীভাবে জিয়া পরিষদের সভাপতি।
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


আওয়ামী লীগের হত্যা মামলার আসামি কীভাবে জিয়া পরিষদের সভাপতি।


মোঃ আলামিন বেপারী
মোঃ আলামিন বেপারী নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট:
আওয়ামী লীগের হত্যা মামলার আসামি কীভাবে জিয়া পরিষদের সভাপতি।
আওয়ামী লীগের হত্যা মামলার আসামি কীভাবে জিয়া পরিষদের সভাপতি।
Featured Image

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা ও সংহিসতার মামলার এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও সাভার পৌর জিয়া পরিষদের সভাপতি পদে স্থান পেয়েছেন ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মেহেদী রানা শহীদ। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে হঠাৎ রূপ বদলে এক সময়ের বহুল বিতর্কিত এই ব্যক্তি কীভাবে জিয়া পরিষদের শীর্ষ পদে আসীন হলেন—তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে সংঘটিত একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মেহেদী রানা শহীদ এজাহারনামীয় আসামি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত এক দশকে তিনি স্থানীয় আওয়ামী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা হাসিল করেছেন। এমনকি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা তথ্য ও একাধিক ছবিতে দেখা যায়, বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর নিবিড় সখ্য ছিল। একসময় সাভারের আলোচিত-বিতর্কিত ক্ষমতার দাপট দেখানো শীর্ষ চক্রের তোষামোদ করেই চলতেন এই সুবিধাবাদী ব্যক্তি। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন ও প্রভাব বিস্তারের লোভে তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের হাতে মোটা অঙ্কের নজরানা তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ​এ ছাড়া স্থানীয় সাধারণ মানুষের ক্যাবল (ডিস) ব্যবসা ও ইন্টারনেট সংযোগ জবরদখলের বহু অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের মতে, অতীতে ছাত্রদল পরিচয়ের আড়ালে তিনি যে প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতাসীনদের একনিষ্ঠ দালাল হিসেবে কাজ করেছেন তা এখন সাভারে একটি ওপেন সিক্রেট। ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি খোলস বদলে ফেলেন এবং নিজেকে বিএনপি ও জিয়া পরিষদের বড় নেতা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের সম্পূর্ণ অবমূল্যায়ন করে হত্যা ও দখলদারিত্বে অভিযুক্ত এমন এক অনুপ্রবেশকারীকে সাভার পৌর জিয়া পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বসানোয় প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ​সাভারের একাধিক ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: যেসব নেতাকর্মী বিগত ১৬ বছর ধরে দলের জন্য জেল-জুলুম, মামলা ও অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে হত্যা মামলার আসামি ও দখলদারদের দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ডিস-ইন্টারনেট জবরদখলকারী এই শহিদ কোন সাহসে বিএনপির মিছিলে মুখ দেখায়? দলের দুঃসময়ে পিঠ বাঁচানো এই দালাল ও সুযোগসন্ধানীদের স্থান যদি বিএনপিতে হয়, তবে বহু বছর ধরে রক্ত দেওয়া ত্যাগী কর্মীদের স্থান কোথায়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও মহান শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দ্রুত এদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা না হলে ত্যাগী কর্মীরা রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে।এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাভার পৌর জিয়া পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি মেহেদী রানা শহীদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।