বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দেশের প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই দিনে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীর ছাড়পত্র প্রদান উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত একজন রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বিএমইউতে ভর্তি হন। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ৩১ আগস্ট তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা ওই রোগীকে কিডনি দান করেন। সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
ছাড়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে রোগী নিজের চিকিৎসা-অভিজ্ঞতা ও নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসক, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের কিডনি জটিলতা ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যেই আবেগের সৃষ্টি করে। এ সময় রোগী ও তার স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএমইউ। নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনও ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন। তিনি কঠোরভাবে উল্লেখ করেন, অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণের কোনও সুযোগ নেই এবং কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনার কিডনি প্রতিস্থাপন দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং দেশেই এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সম্ভব হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি কমবে। বিএমইউর এই সফলতা আইনসম্মত, নিরাপদ ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে অঙ্গদানের সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রো-ভিসি, বিভাগীয় প্রধান, সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।