লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং ইয়েমেনের বড় অংশ এখন হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং মিশরের সামরিক প্রধানদের নিয়ে মার্কিন উদ্যোগে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সৌদি আরব বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরাসরি কোনো পদক্ষেপে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন মাবন জানান, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনে বড় হস্তক্ষেপ করা কঠিন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অনীহা সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলার পর দেশটি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে কূটনৈতিক সম্পর্ক বহুমুখী করেছে।
ইতিমধ্যে ইরান ও হুতিদের সাথে সংঘাতে মার্কিন সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার অনেকটাই কমে এসেছে এবং পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম চার মাসে যুদ্ধের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেনে নতুন কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইছে না।
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসের সাথে বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন জাহাজ আক্রমণ না করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে ওয়াশিংটনের কাছে আপাতত হুতিদের এই আশ্বাস মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।