দীর্ঘ কর্মজীবনের ব্যস্ততা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের অধ্যায় পেরিয়ে জীবনের নতুন এক পথচলায় পা রাখলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি) মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর অবসরজনিত বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বৃহস্পতিবার রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ মমতাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার (ট্রাফিক এন্ড অপারেশন, অতিরিক্ত দায়িত্বে ইন্টেলিজেন্স, আইসিটি ও মিডিয়া) বি. এম. আশরাফ উল্যাহ তাহের এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইলিয়াছ হোসেন, পিপিএমসহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
কর্মক্ষেত্রে বিদায় একটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু কিছু মানুষের বিদায় কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকে না। তাঁদের দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক কর্মস্থলে রেখে যায় এক গভীর ছাপ। জনাব মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরীর বিদায়ও তেমনই এক আবেগঘন মুহূর্ত, যেখানে দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতির সঙ্গে মিশে ছিল সহকর্মীদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
বিদায়ী অতিথির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অবসর মানেই কর্মজীবনের সঙ্গে সব সম্পর্কের অবসান নয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, অর্জিত জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ পরবর্তী প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন,আমাদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে কাজে লাগাতে হবে। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে, মাঝেমধ্যে দাওয়াত দিতে হবে, তাঁদের কথা শুনতে হবে। আপনারা যেকোনো সময় আমাদের অফিসে আসবেন। আপনাদের জন্য আমাদের অফিসের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন।
ডিআইজি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তা প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তাই অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের ব্যস্ততা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের পাশাপাশি জনাব মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর সহধর্মিণী মোছাঃ ফেরদৌসি বেগম এই দীর্ঘ পথচলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী। তাঁদের দুই কন্যা জাকিয়া জামান চৌধুরী ও সামিয়া জামান চৌধুরীকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবনও কর্মজীবনের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনসহ পেশাগত জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অর্জন তাঁর কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়ের এই আয়োজনে সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আবেগঘন হয়ে ওঠে সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ। দীর্ঘদিনের কর্মসঙ্গীকে বিদায় জানাতে গিয়ে সবার প্রত্যাশা ছিল, কর্মজীবনের মতো অবসরজীবনও তাঁর জন্য হয়ে উঠুক শান্তি, আনন্দ ও প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে পরিপূর্ণ।
অবসর জীবনের নতুন অধ্যায়ে জনাব মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ। সহধর্মিণী মোছাঃ ফেরদৌসি বেগম এবং দুই কন্যাকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠুক, এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেও সহকর্মীদের হৃদয় থেকে বিদায় নেওয়া যায় না। দায়িত্ব পালনের দিনগুলোর স্মৃতি, সহকর্মীদের আন্তরিকতা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে রংপুর রেঞ্জ পুলিশের সঙ্গে এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ রাখবে।
বিদায় মানেই বিচ্ছেদ নয়,কখনো কখনো তা নতুন করে ফিরে আসার এক আন্তরিক আমন্ত্রণ। সেই প্রত্যাশা ও ভালোবাসা নিয়েই প্রিয় সহকর্মীকে জানানো হয় শুভকামনা।
শুভ হোক আপনার অবসরজীবনের প্রতিটি দিন।