ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গণিত সূত্র প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অর্থনীতিবিদ জন টেলরের তৈরি করা এই টেলর সমীকরণটি সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির শক্তির ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
আইজি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিচ্যাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। গত বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোর বিপুল ক্ষতি হয়েছে এবং যুদ্ধটি জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি সুদের হার বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেছেন যে মুদ্রাস্ফীতির পেছনে ভূ-রাজনীতি বড় ভূমিকা রাখলেও ফেড বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্য বিচার করেই সুদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গালিবফ মূলত তার পোস্টে হরমুজ প্রণৌলী বন্ধ থাকা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক খরচ বোঝাতে এই সমীকরণ ব্যবহার করেছিলেন। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাবি বলেন, এটি সুদের হার নির্ধারণের কোনো বাস্তব প্রস্তাব নয়, বরং এর মাধ্যমে ইরানের সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রভাবকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গালিবফ অর্থনৈতিক যুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন।