বিয়ের পাঁচ বছর পার হলেও সন্তান হয়নি আঁখি আক্তারের। সন্তানের আশায় মানত করতে স্বামী, বাবা, বোন ও ভাগনে-ভাগনিকে নিয়ে মৈনট পীরের বাড়ির মাজারে যাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় তাদের বহনকারী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আঁখি আক্তার (৩০), তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং সিএনজিচালক জুয়েল (৪০) মারা যান। নিহত সবার বাড়িই টাঙ্গাইল জেলায়। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন লাকী আক্তার, আবুল হোসেন, সেলিম আহমেদ ও শিশু সাদিয়া আহত হয়েছেন। একসঙ্গে মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে হাসপাতালে আহাজারি করছেন আহত আবুল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় একটি কালামপুরগামী সিএনজির সঙ্গে সাটুরিয়াগামী অজ্ঞাত পিকআপের সংঘর্ষ হয়। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আঁখিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।