বন্ধ করুন
ইয়োনবু থেকে সোহারের দিকে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রুট
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ইয়োনবু থেকে সোহারের দিকে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রুট


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট:
ইয়োনবু থেকে সোহারের দিকে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রুট
ইয়োনবু থেকে সোহারের দিকে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রুট
Featured Image

গত সপ্তাহে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল কমে গেছে।

এলএসইজি ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের তেল আমেরিকা অঞ্চলের গবেষণা বিশেষজ্ঞ ঋষি রাজনলা বলেন, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের সামনে বিকল্প পথ খুবই সীমিত। এর মধ্যে একটি হলো ওমানের সোহারের বাইরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল হস্তান্তরসহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল পাঠানো।

জিপসন শিপব্রোকার্সের গবেষণা পরিচালক রিচার্ড ম্যাথিউস জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রপ্তানিতে মালবাহী খরচ আরও বাড়বে এবং কার্যক্ষমতায় ঘাটতি তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, ইয়োনবুতে তেল লোডিং কতদিন স্থগিত থাকবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাইস্টাড এনার্জির আপস্ট্রিম রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে হরমুজ রুট দিয়ে রপ্তানি বেড়ে প্রতিদিন ২০ লক্ষ ব্যারেলের বেশি হয়েছে। আরামকো এশীয় শোধনাগারগুলোর জন্য সোহার থেকে অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করছে।

সৌদি আরবের বেশিরভাগ তেল পূর্ব দিকে উৎপাদিত হয় এবং আরামকোর পাইপলাইনটি ঘাওয়ার ও আবকাইক প্রক্রিয়াকরণ সুবিধাকে ইয়োনবু বন্দরের সাথে যুক্ত করে। ১৯৮১ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

ইয়োনবু থেকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে দুটি পথ রয়েছে, যার একটি দক্ষিণ দিকে বাব আল-মানদেব এবং অন্যটি উত্তর দিকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে চলে যায়। তবে ইয়েমেনের উপকূলে ইয়েমেনি হুথি বাহিনী কড়া অবস্থান নেয়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় পথটি বর্তমানে কার্যকর নয়।

এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে মেরামত শেষ হতে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এইচএসবিসি গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের মতে, সুয়েজ ম্যাক্স ট্যাংকার ব্যবহার করে সৌদি আরব ইয়োনবু ও আইন সুখনার মধ্যে তেল পরিবহনের পরিকল্পনা করেছিল।

রাহুল চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করছি পাইপলাইনটি দুই সপ্তাহের মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ হ্রাসকৃত ক্ষমতা নিয়ে পুনরায় চালু হতে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল প্রবাহিত হতে পারে এবং ইয়োনবুর রপ্তানি আংশিক চালুর পরও কমে যাবে।

সৌদি পরিকল্পনায় সড়কপথে তেল পরিবহনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি যার মূল কারণ এর অবাস্তব হিসাব। সৌদি আরব সাধারণত প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে থাকে যা সড়কপথে পরিবহন করতে প্রতিদিন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ট্যাংকারের প্রয়োজন হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারে লেনদেন হলেও বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম আরও বাড়তে পারে। লসেগের গবেষক রাজনলা জানান, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।