ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এই সংঘাতে ইয়েমেন সরকার ও জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কূটনীতিক নীল হপ ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবার সঙ্গে ফোনালাপে এই জোরালো সমর্থনের কথা জানান।
ইয়েমেনি সরকারি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মোচার আশেপাশের হুথি ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুথি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তায়েজ, মারিব এবং হুদাইদাহ প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে হুথিরা খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি এবং সৌদি লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মারিবের মধ্যবর্তী প্রদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। আল জাজিরার ইয়েমেন সংবাদদাতা ইউসুফ মাওরি জানান, সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির মুখে পড়েছে এবং আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছে। সৌদি আরব ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিশর এবং যুক্তরাজ্যকে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষা করতে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা মোতায়েন করতে বলেছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ওমানের মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে হুথিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানায় যে মার্কিন জাহাজে আক্রমণ করার তাদের কোনো ইচ্ছা নেই এবং তারা যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।