রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের কারণে গত দুই বছরে নারায়ণগঞ্জের শিল্প খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের আওতাধীন ৪৬টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। গত দুই বছরে নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জ জেলার উপমহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন যে গ্যাস সংকটের সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০০ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর মধ্যে কিছু কারখানা সচল হলেও বাকিগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে এবং এর ফলে রফতানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি হিসাবের বাইরে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বড় পরিসরে কারখানা বন্ধের দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম দাবি করেছেন যে জুলাই আন্দোলনের পর থেকে জেলায় অন্তত ১১০টির অধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রূপগঞ্জের গাজী গ্রুপের দুটি কারখানায়। রূপসী এলাকায় গাজী পাইপ ও ডোর কারখানা এবং খাদুন এলাকায় গাজী টায়ার্স কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় এবং দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।