জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে গত ২৯ অগাস্ট ছিনতাইকারীর টানে অটোরিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে এক ঝলক দেখেছিলেন এবং মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকনকে তিনি শনাক্ত করেন। পরে ঢাকা ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোকন ও রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ছিনতাই হওয়া ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ধরে টান দিয়েছিলেন। সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রাজীবের কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ অগাস্ট র্যাব এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও তদন্তে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ডিবি। ফলে আগের আসামিদের এই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
এদিকে অপরাধ না করেও রিমান্ড ও কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা। র্যাবের হাতে আটক নিরপরাধ ব্যক্তিদের হেনস্তার প্রতিকার চেয়ে তাদের পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন এবং চোখের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। এসআরবি-২ এর সেকেন্ড-ইন- কমান্ড স্কোয়াড্রন লিডার নিফাজ রহমান জানিয়েছেন, র্যাব ও ডিবির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং তারা প্রত্যেকেই আইনের মধ্যে থেকে নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন।