দক্ষিণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ হাসপাতালে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ক্লিনিক বা হাসপাতালে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান কনফারেন্স হলে ‘মেজার্স আউটব্রেক ২০২৬-ইন সাউদার্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ১৯৮ জন বা ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে গ্রামাঞ্চল থেকে এবং ১২৭ জন বা ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল নিম্ন আর্থসামাজিক স্তরের পরিবারের। ৩০০ শিশুর মধ্যে ১৬৭ জন বা ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ ছিল সম্পূর্ণ টিকাবিহীন। হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু তীব্র অ্যাকিউট পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল এবং গত ছয় মাসে সরকারি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল মাত্র ৩২ দশমিক ১ শতাংশ শিশু।
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম, যা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম টিকা নেওয়ার বয়সের নিচে। তবে গবেষণায় টিকার সঙ্গে মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া গেছে যেখানে আগে হামের অন্তত একটি টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে কোনো মৃত্যু হয়নি। টিকাবিহীন শিশুদের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন যে কোনো শিশুর হামে মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয় এবং টিকাদান কৌশল পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয় এটি। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দীন জানান যে হাসপাতালগুলোতে র্যাপিড ট্রায়াজ, তাৎক্ষণিক আইসোলেশন ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গবেষণাটি করেছে এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।