দেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আলিয়া, কওমি ও হিফজসহ সব ধরনের মাদ্রাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল’ গঠন এবং প্রতিটি মাদ্রাসায় ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি’ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসায় শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি চালু এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে মাদ্রাসার শিক্ষক, আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক, হোস্টেল ওয়ার্ডেন ও কেয়ারটেকার নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ফৌজদারি রেকর্ড যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার প্রবেশপথ, করিডোর, শ্রেণিকক্ষ ও সাধারণ আবাসিক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে। তবে বাথরুম, টয়লেটসহ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্থানগুলোতে ক্যামেরা না বসানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে শিশুদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারকে নোটিশ পাওয়ার পর পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। আইনি নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।