ছয় কুড়ি বিল আর নয় কুড়ি কান্দা এই প্রবাদেই জড়িয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা। তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এই হাওর আন্তর্জাতিকভাবে দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে খ্যাত। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ৩৮টি ঝরনা সমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রধান মাদার ফিশারিজ বা মাছের প্রজননক্ষেত্র বলা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম জানিয়েছেন যে হাওরের সমস্যাগুলো একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেরগুল আহমেদ উল্লেখ করেছেন যে কীটনাশক ও অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার মাছের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান যে ২০২৫ সালের সরকারি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং ২০০০ সালের ১০ জুলাই রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এই হাওরে ১৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৪১ প্রজাতির মাছ ও অসংখ্য পরিযায়ী পাখি রয়েছে। তবে অপরিকল্পিত বাঁধ, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে এই হাওরের জীববৈচিত্র্য বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।