মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির দীর্ঘ সংঘাতের কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরের প্রধান বাণিজ্যপথ বন্ধ রয়েছে। নাফ নদীপথে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও লোকসানে রয়েছে। বাণিজ্যপথ চালু না হওয়ায় বন্দরের আয় ও কর্মসংস্থান—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লেগেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে মিয়ানমারের মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। এ সময়ে দেড় হাজারের বেশি ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য বাণিজ্য হয়েছে। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মংডু থেকে ১ হাজার ৮২৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয় এবং এসব পণ্য থেকে সরকার ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন পণ্য। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫২১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ চার মাসে মংডুর সঙ্গে আমদানির তুলনায় রফতানির পরিমাণ প্রায় চার গুণ।
বাংলাদেশ থেকে মংডুতে আলু, ময়দা, ডিম, প্লাস্টিকের চেয়ার, টাইলস, ছাতা, স্যান্ডেল ও সাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে। বিপরীতে মিয়ানমার থেকে আসছে কাঠ, আইএনসি, কাঁকড়া ও নাইল্যা শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য। স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত বাণিজ্যের মূল অংশ ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দরের সঙ্গে হওয়ায় সংঘাতের কারণে ব্যবসায়ীরা হতাশায় রয়েছেন।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি থেকে সরকার প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। পরের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি কমে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টনে নেমে আসে এবং রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৯১ কোটি টাকা। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকলেও মংডুর সঙ্গে থেমে থেমে বাণিজ্য চলছে। স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে মূল বাণিজ্য রুট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বন্দরসংশ্লিষ্টরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।