সোমবার রাতে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পশ্চিম আকাশে এক চমৎকার মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা গেছে। সরু একফালি চাঁদের ঠিক পাশেই জ্বলজ্বল করছিল সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শুক্র। চাঁদ ও শুক্রের এই কাছাকাছি অবস্থানকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মুন-ভেনাস কনজাংশন। ইন দ্য স্কাই-এর তথ্য অনুযায়ী, এদিন পৃথিবী থেকে দেখা হিসাবে চাঁদ ও শুক্রের কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ৩১ আর্কমিনিট। সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের সময় এই ব্যবধান কমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮ আর্কমিনিটে নেমে আসে। এর ফলে পৃথিবী থেকে মনে হয়েছে চাঁদ ও শুক্র পাশাপাশি অবস্থান করছে, যদিও বাস্তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব বিপুল। অন্ধকার আকাশে চাঁদের বাঁকা আলোকিত অংশটির পাশাপাশি শুক্রের উজ্জ্বলতাও খালি চোখে সহজেই দেখা গেছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ সময় চাঁদের উজ্জ্বলতা ছিল মাইনাস ১০ দশমিক ৩ ম্যাগনিটিউড এবং শুক্রের উজ্জ্বলতা মাইনাস ৪ দশমিক ৫ ম্যাগনিটিউড। সংখ্যা যত ঋণাত্মক হয়, জ্যোতিষ্ক তত উজ্জ্বল বলে বিবেচিত হয় এবং শুক্র এত উজ্জ্বল হওয়ায় অনেকেই একে নক্ষত্র বলে ভুল করেন। ইন দ্য স্কাই আরও জানায়, বিশ্বের কিছু অঞ্চল থেকে এদিন চাঁদের আড়ালে শুক্রকে সাময়িকভাবে চলে যেতে দেখা সম্ভব ছিল। পৃথিবী থেকে দেখার দৃষ্টিরেখায় চাঁদ যখন শুক্রের সামনে আসে, তখন কিছুসময়ের জন্য শুক্রকে আড়াল করে। তবে এ ঘটনা পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে দেখা যায় না এবং পর্যবেক্ষকের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে দৃশ্য ভিন্ন হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার দৃশ্যটি ছিল মূলত সরু চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রের উপস্থিতি এবং পশ্চিম দিগন্ত পরিষ্কার থাকায় অনেকে খালি চোখেই তা দেখেছেন। কক্সবাজারের উখিয়ার ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সোহেল চৌধুরী অনুরূপ দৃশ্যের ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তিনি জানান, এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না এবং প্রকৃতির নান্দনিকতা আসলেই বিস্ময়কর। ফিলিপাইনের সরকারি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আবহাওয়া সংস্থা পাগাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরিতেও ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শুক্রের সংযোগের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে তাদের সংযোগ ঘটে এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে তারা সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। সেপ্টেম্বর মাসে শুক্র পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ রয়েছে এবং নাসার নির্দেশিকা অনুযায়ী মাসের মাঝামাঝি সময়ে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শুক্র অত্যন্ত উজ্জ্বল থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে গ্রহটি সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে নাসা জানিয়েছে এবং পাগাসার হিসাবে ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার সময়। মাসের শেষ দিকে গ্রহটি সূর্যের দিকে নিচু অবস্থানে চলে যাওয়ায় সন্ধ্যার আকাশে তাকে দেখা তুলনামূলক কঠিন হবে। এ মাসে চাঁদকে ঘিরেও আরও কিছু মহাজাগতিক ঘটনা রয়েছে যার মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চন্দ্র পর্যবেক্ষণ রাত। এছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শনির কাছাকাছি অবস্থান এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে হারভেস্ট মুন দেখা যেতে পারে।