রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসা খরচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভ করেন আসিফ হাসান নামের এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, তার ভাগ্নির ছেলে আয়ান আবদুল্লাহকে গত ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভর্তির সময় চিকিৎসকরা শিশুটির রক্তে সুগার কম থাকার কথা জানান। রোববার হাসপাতাল থেকে পরদিন শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বিকেলে হঠাৎ জানানো হয় লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। জোর করে পিআইসিইউতে প্রবেশ করে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দুই লাখ টাকার বেশি বিল করার অভিযোগ তোলেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বীর উত্তম সিআর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান ও ধানমন্ডির সহকারী কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস। পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে তারা হাসপাতালের কোনো অবহেলা খুঁজে পাননি এবং শিশুটি বেশ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছিল। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লাইভটি করা ব্যক্তি শিশুটির নিকটাত্মীয় নন, বরং তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এছাড়া পিআইসিইউ কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়ে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে আইনগত সহযোগিতা নিতে পারে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না স্বজনদের এমন দাবি মিথ্যা উল্লেখ করে ডা. জাহিদ রায়হান জানান, ওই সময় কনসালটেন্ট ডা. নাজমুল হকসহ দুজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন এবং হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তার কারণে তারা অন্য কক্ষে যান। হাসপাতালের পিআইসিইউ ও এনআইসিইউ পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক জানান, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয় এবং তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিকও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।