জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযানকালে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়া তেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি এবং নোংরা পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এ ছাড়া অনুমোদনহীন ঘি ও বিরিয়ানিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকার বিষয়গুলোও নজরে আসে।
বিএফএসএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটনে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও তিনটি মামলা করা হয়। ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারীতে পরিচালিত অভিযানে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫টি মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর পাবনায় সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিন সিলেটের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে কোনো অসঙ্গতি না মিললেও অন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সাত দিনের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে সারাদেশে বাজার ও রেস্তোরাঁসহ ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি কার্যক্রমও চালানো হয়েছে।
বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সংস্থাটি আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট ও গণসচেতনতা তৈরিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।