ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী সংলগ্ন মোখা বন্দর নগরী এবং মায়ুন দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। এর ফলে আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথটিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছে গোষ্ঠীটি।
আইএমএফ পোর্টওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে হামলার কারণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করায় ২০ দিনেরও বেশি বাড়তি সময় লাগছে এবং বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপারেশন আটলান্টাসহ আন্তর্জাতিক নৌ মিশনগুলো আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মিসর। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটি সুয়েজ খালের প্রায় ৬০ শতাংশ রাজস্ব বা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। সংঘাত বিশেষজ্ঞ বদর হাসান আল-শাফেই জানান, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হলেও মিসর ২০১৫ সাল থেকে চলে আসা তাদের কৌশলগত সংযম বজায় রেখে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে রয়েছে ১১ শতাংশ সামুদ্রিক তেল ও ৮ শতাংশ এলএনজি পরিবহন। হুতি পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ নৌ চলাচল নিরাপদ থাকার দাবি করলেও শিপিং সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নজরদারির সুযোগে সোমালি উপকূলে জলদস্যুতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের এই উত্তেজনার প্রভাব আফ্রিকার দেশগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি মানুষ ইয়েমেন থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী জিবুতির ওবক শহরে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।