ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিরা গত বৃহস্পতিবার মোচা এবং শুক্রবার মায়ুন দ্বীপ দখল করার পর এই আক্রমণ শুরু হয়। এর মাধ্যমে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ করেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য সুলতান আল-আরাদা জানিয়েছেন, পশ্চিম উপকূল থেকে পিছিয়ে আসা সরকারি বাহিনী বর্তমানে মারিবে পুনর্গঠিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে হুথিরা শান্তি প্রক্রিয়াকে শেষ করে দিয়েছে এবং যুদ্ধকে আবার ইয়েমেনের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব হুথিদের সামরিক অগ্রগতির বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ১২৯টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে।
হুথিরাও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং নাজরান শহরে এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল এবং বিভক্ত কমান্ডের কারণে হুথিদের অগ্রগতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেবল বিমান হামলা দিয়ে হুথিদের ঠেকানো সম্ভব নয়, এর জন্য স্থলভাগের বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।