দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাতের রোগীর সংখ্যা। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা খরচ এবং রোগীর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার ক্রমাগত দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালের জাতীয় গবেষণা অনুযায়ী দেশে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষমতা হারান।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষের সমান। এ ছাড়া দেশে অসংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ হলেও পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী বাতরোগ এখনো জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস। তিনি জানান, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ এবং স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসে ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় হতে পারে।
পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হওয়ায় অনেকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। সচেতনতার ঘাটতি, ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটই এর প্রধান অন্তরায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি টাকার বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ রিউমাটোলজি ইনস্টিটিউট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।