ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টিকে অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন রায় কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে বিচারিক সংবেদনশীলতার সুস্পষ্ট অভাব দেখা গেছে। দণ্ডবিধির মৌলিক বিষয়গুলো না শেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিচারককে দায়রা এখতিয়ারের বাইরে রাখা উচিত। এ কারণে রায় প্রদানকারী ট্রাইব্যুনালের বিচারককে দায়রা এখতিয়ার থেকে প্রত্যাহার করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দ্দৌলার নির্দেশেই নুসরাতকে হত্যা করা হয়। সিরাজসহ ছয় আসামি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল, যা সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রমাণিত। তবে শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসার উদ্দীনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং তারা অবিবেচক রায়ের কারণে ৭ বছরের বেশি সময় নির্জন কারাকক্ষে বন্দী ছিলেন।
গত ২৪ আগস্ট ঘোষিত রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া নুর উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের ও উম্মে সুলতানা পপির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রুহুল আমিন ও মাকসুদুল আলমসহ ১০ জনকে মামলা থেকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয় এবং ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর গঠিত বিশেষ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হলো।