ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর আওতাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আজ দুদক-এর প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে। নথিপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন দুদক-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।
প্রকল্পের মূলধন অংশের অনাবাসিক ভবন খাতে সিসিজিপি অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা মূল্যে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিপিপি, আরডিপিপি বা হোপের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতে আরও আটটি প্যাকেজ সৃষ্টি করে ই-জিপির মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও এনফোর্সমেন্ট টিমের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
তদন্তে আটটি প্যাকেজের মধ্যে চারটির অর্থাৎ ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং এসব কাজের চুক্তিপত্র বা পরিমাপ বইও অনুপস্থিত ছিল। অন্যদিকে, ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব মিললেও সেগুলোর মূল কাজ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিবেদন দেন। তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে এ ঘটনার জন্য মূলত দায়ী করা হয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তার দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক। বিধিবহির্ভূতভাবে প্যাকেজ বিভাজন ও কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা এই মুহূর্তে গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।