দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সম্পর্কের চরম অবনতির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা করার সব উপায় ব্যর্থ হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমিরাতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু উস্কানমূলক ও শত্রুতামূলক কাজ করার অভিযোগ এনেছে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ সাইফ খামিস সুবা আল-আলীকে তলব করে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত জানানো হয় এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার থেকে আমিরাতের নিবন্ধিত সব বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্স থেকে পরিচালিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ধাঁধা বা সংকেতের পরিবর্তে যুক্তি ও স্বচ্ছতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা আশা করে এই সিদ্ধান্তটি একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ মাত্র। এছাড়া ভ্রাতৃপ্রতিম আলজেরীয় জনগণের প্রতি এবং আমিরাতে বসবাসরত আলজেরীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গভীর শ্রদ্ধার বিষয়টিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইসরায়েল ও পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে এবং আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবৌনে এর আগে আমিরাতের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করলেও আমিরাত ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার ক্ষেত্রে আমিরাত মরক্কোর দাবিকে সমর্থন করলেও আলজেরিয়া পলিসারিও ফ্রন্টের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে আসছে।