সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের রৌহাবাড়ি এলাকায় মাত্র এক শতাংশ বাড়ির জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধে বিপাকে পড়েছেন বকুল ও তার পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাওয়ার টিলার ডাকাতি ও ঘর ভাঙার অভিযোগে মামলা এবং ১৪৪ ধারা জারি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রৌহাবাড়ি মৌজার আরএস ৬৩ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৬১ নম্বর দাগে প্রায় এক শতাংশ বাড়ির জমি নিয়ে বকুলের পরিবারের সঙ্গে আবু তালেবের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি টিনের ছাপরা ঘর ছিল, যা নিজের বলে দাবি করেছেন বকুল।
বকুলের ভাষ্য, জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় বিরোধপূর্ণ স্থানে রাখা পাওয়ার টিলারটি তিনি নিজেই সরিয়ে অন্য জায়গায় রেখে দেন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে কেউ সেটি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই টিলারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখেন বলে জানান তিনি।
বকুল বলেন, “ডাকাতি তো হয়নি। পাওয়ার টিলারটি আমি নিজেই সরিয়ে অন্য জায়গায় রেখেছি। অথচ আমার বিরুদ্ধে পাওয়ার টিলার ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমার নিজের ঘর ভাঙারও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
বকুলের পরিবারের দাবি, পাওয়ার টিলারটি চুরি বা ডাকাতি হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে আবু তালেবের বাড়িতে পাওয়ার টিলারটি দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। এ ঘটনায় ডাকাতির অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবারটির অভিযোগ, পাওয়ার টিলার ও ঘর ভাঙার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় পুলিশি তৎপরতায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, হাসান আলী ও মতিউর রহমান মতি বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু মামলা দিয়ে বকুলের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।যে মামলা বকুলের বিরুদ্ধে আবু তালেব করছে সেটি সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমরা চাই বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে সমাধান করা হোক।
বকুলের মা রওশনারাও পরিবারের ওপর হয়রানি বন্ধ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিরোধটি মীমাংসার জন্য গ্রাম পর্যায়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ছোট একটি জমিকে কেন্দ্র করে বিরোধ ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। এলাকাবাসী উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও ঘটনার সত্যতা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আবু তালেবের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী লাভলী খাতুন বিষয়টি “অর্ধেক সত্য, অর্ধেক মিথ্যা” বলে মন্তব্য করেন।
পরে মোবাইল ফোনে আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পাওয়ার টিলার আছে, কিন্তু আমার ঘরের ক্ষতি হয়েছে। আমি মামলা করেছি। আমার ক্ষতি বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিলে আমি বিষয়টি মীমাংসা করতে রাজি আছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি,পুলিশ একতরফা আবু তালেবের পক্ষে মামলার অভিযোগ ও চার্জশিটের দিয়েছে এবং অভিযোগগুলো সঠিক নয়। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতি, ঘর ভাঙা ও জমি সংক্রান্ত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা হোক। একই সঙ্গে ১৪৪ ধারার বিষয়টিও আইনানুগভাবে পর্যালোচনা করে কোনো নিরপরাধ পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।