বন্ধ করুন
মিম্বর থেকে ক্ষমতার দরবার, আদর্শের এই আপস কতদিন?
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


মিম্বর থেকে ক্ষমতার দরবার, আদর্শের এই আপস কতদিন?


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট:
মিম্বর থেকে ক্ষমতার দরবার, আদর্শের এই আপস কতদিন?
মিম্বর থেকে ক্ষমতার দরবার, আদর্শের এই আপস কতদিন?
Featured Image

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে হেফাজতে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ এবং ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশ ও সংঘর্ষ গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে সরকার ও হেফাজতের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগের নানা দৃষ্টান্ত দেখা যায় এবং ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থনের অবস্থান নিলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে।

রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন অপরাধ না হলেও ধর্মীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে জনগণ জানতে চায় এই পরিবর্তন আদর্শগত নাকি রাজনৈতিক সুবিধাভিত্তিক কারণ তাদের পেছনে থাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের নৈতিক কর্তৃত্ব। ইসলামের ইতিহাসে আলেম সমাজ সমাজের বিবেক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠ হলেও ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সত্যের পক্ষে থাকা না ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা—এই দ্বন্দ্ব তাদের মোকাবিলা করতে হয়। যে আলেম ক্ষমতাবানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন এই প্রশ্ন সব ইসলামী সংগঠনের জন্য প্রযোজ্য।

আজ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি প্রশ্নপ্রবণ এবং তারা জানতে চাইছে কেন মসজিদের মিম্বরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার অন্যায়ের সময় নীরব থাকা হবে। একইসঙ্গে দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অসম সম্পর্কের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বিদেশি আধিপত্যের বিরোধিতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অন্যায়ের বিরুদ্ধেও একই নৈতিক অবস্থান থাকতে হবে। দেশপ্রেম, ইসলাম ও ন্যায়বিচারকে ধারণ করতে হলে কোনো শক্তির অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং তরুণদের এই প্রশ্নগুলোকে অবহেলা করা যাবে না।

উপমহাদেশের আলেম সমাজের সামনে আজ ঐতিহাসিক মোড় এসেছে যেখানে তারা ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে প্রভাবশালী হওয়ার পথ বেছে নেবেন নাকি ক্ষমতার বাইরে থেকেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নৈতিক শক্তি হয়ে থাকবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের কেউ নয় বরং কথা ও কাজের অমিল, ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং আদর্শের বিনিময়ে সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আদর্শের পরীক্ষা চিরস্থায়ী হওয়ায় আলেম সমাজ ইতিহাসের কোন পাশে নিজেদের নাম লিখবেন সেটাই এখন বড় সিদ্ধান্ত।