যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ চীনে রপ্তানি করছে। তবে চীনের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ ইরান থেকে আসে, যা বেইজিংয়ের জন্য তেহরানের গুরুত্ব সীমিত করে তোলে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে চীনের বড় রাষ্ট্রীয় রিফাইনারিগুলো ইরান থেকে দূরে থাকলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এই বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২১ সালে চীন ও ইরানের মধ্যে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হলেও এর বাস্তবায়ন খুবই ধীর। ২০২৩ সালে ইরানের তৎকালীন উপ-অর্থন্ত্রী আলী ফিকরি জানিয়েছিলেন, চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ১৮৫ মিলিয়ন ডলারে আটকে আছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ জটিল আমলাতন্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকায় চীনা কোম্পানিগুলো সেখানে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।
মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান থেকে চীনের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের দৈনিক রপ্তানি মার্চ-এপ্রিলের ১৮.৫ লক্ষ ব্যারেল থেকে আগস্টে ২.৪০ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বর্তমানে সমুদ্রে থাকা ইরানের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলও দ্রুত ফুরিয়ে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চীনের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অন্য দেশ দিয়ে পূরণযোগ্য। সৌদি আরব, রাশিয়া বা ইরাকের মতো বিকল্প উৎস থাকায় বেইজিং ইরানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। মূলত, চীন ইরানকে মিত্রের চেয়ে গ্রাহক হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দেয় এবং নিজস্ব বৈশ্বিক স্বার্থ রক্ষায় তারা তেহরানকে কোনো 'ব্ল্যাঙ্ক চেক' দিতে নারাজ।