দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত সিরিক কাউন্টির ওই শহরে রাতের বেলা এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।
হরমুজগান গভর্নরের কার্যালয় নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী আমির আলি করিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালাহি, ৪৩ বছর বয়সী কুলসুম মালাহি এবং ৪৩ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িটির মালিক আলী মালাহি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, সেখানে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এবং উপস্থিত সবাই ছিলেন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তিনটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়, যার একটি বাড়ির ছাদ ভেদ করে মেঝেতে দেড় মিটারের গর্ত তৈরি করে। ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ দেখে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হামলায় বোয়িংয়ের তৈরি এজিএম-৮৪কে স্ল্যাম-ইআর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, কুহেস্তাকের এই হামলা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৃশংসতার ধারাবাহিকতা। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স দাবি করেছেন, আইআরজিসির মতো মার্কিন বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।
যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় শিশুসহ প্রায় ১৫৬ জন এবং লামার্দ শহরের একটি স্পোর্টস হলে ২১ জন নিহত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন।