শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে স্বপদে পুনর্বহালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আদেশের বিরুদ্ধে করা রিটের রুল খারিজ করে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করেন যে, গভর্নিং বডি কেবল বরখাস্তের প্রস্তাব পাঠাতে পারে, সরাসরি বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
আদালত আরও বলেন, টেলিফোনে তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে যথাযথভাবে আয়োজিত গভর্নিং বডির সভায় গৃহীত আনুষ্ঠানিক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে। কোনো সভাপতির মৌখিক বা টেলিফোনিক নির্দেশ রেজ্যুলেশনের বিকল্প হতে পারে না।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে গচিহাটা কলেজের গভর্নিং বডি শিক্ষক আবুল মনসুরকে বরখাস্ত করলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তা বাতিল করে বকেয়া বেতনসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে গভর্নিং বডির সভাপতি আখতারুজ্জামান রিট করেন। মামলা চলাকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় তাকে স্বপদে ফেরানো না গেলেও অবসরের সময় পর্যন্ত সব বকেয়া বেতন ও পেনশন সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুজ্জামান এবং শিক্ষকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আনিসুর রহমান খান ও সুলতান মাহমুদ বান্না।