এক মাসেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সংঘাতের ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আরও বড় আঘাত হানবে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। এর ঠিক আগের রাতে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে চার দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার যে পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের ছিল, দীর্ঘমেয়াদে তা এখন বড় ধরনের ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে।
ছয় মাস পার করা এই সংঘাতের কৌশল বারবার পরিবর্তন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথম ৪০ দিনের তীব্র অভিযানের পর জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে তা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে জুলাইয়ে আবার হামলা শুরু হয় এবং সম্প্রতি সামরিক অভিযানের চেয়ে তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নেয় ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের তেল রাজস্ব ও সংশ্লিষ্ট ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণেই তেহরান সামরিক হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি এই দাবি নাকচ করে জানান, তাদের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়ার তথ্যটি সঠিক নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘যুদ্ধ নয়, শান্তিও নয়’ কৌশল বাস্তবায়নের কথা ভাবছে, যার আওতায় তেলের ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিরতি দিয়ে ইরানে হামলা চালানো হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনা এখনও ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দৈনিক প্রায় ১০০টি থেকে কমে গড়ে মাত্র সাতে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বিরতি দিয়ে বোমাবর্ষণ করার এই কৌশল একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তহীন যুদ্ধের পথ তৈরি করবে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘায়িত যুদ্ধের জেরে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে গোলাবারুদের সম্ভাব্য ঘাটতি মার্কিন প্রশাসনকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।