সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় ‘লাব্বাইক ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি পরিবহন কোম্পানিতে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ৩০ আগস্ট ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মো. রিয়াজ মোর্শেদ।
অভিযোগের অনুলিপি ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবরও প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা ও শ্রমিকদল নেতা পরিচয়দানকারী মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) এবং তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জন সাভারের রেডিও কলোনী এলাকার চেকপোস্টে নিয়মিত উৎপাত চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম ও তার সঙ্গীরা কোম্পানির লোকজনকে গালিগালাজ, মারধর এবং ড্রাইভার-স্টাফদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের কোনো গাড়ি বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না; আর দাঁড়ালে গাড়িপ্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।
পরিবহনকর্মীরা এই চাঁদা দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা কৌশল বদলে নতুন উপায়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা শুরু করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকায় পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেটকার দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯) সাথে ধাক্কা লাগায় জসিম ও তার সঙ্গীরা। এরপর তারা কোম্পানির বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখে এবং পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট সাভার মডেল থানায় বসে ২৫ হাজার টাকা আদায় করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন মোল্লা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালাতেন। বর্তমানে তিনি সাভার পৌর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা জেলা শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন। এসব ঘটনায় চেকপোস্ট ও আশপাশের এলাকায় কর্মরত পরিবহনকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
তবে চাঁদাবাজির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন মোল্লা। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কেন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না এবং চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া সড়কে কেউ চাঁদা দাবি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।