বন্ধ করুন
ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিয়ামনি,উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিয়ামনি,উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের


মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ
মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ উপজেলা প্রতিনিধিঃ সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিয়ামনি,উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের
ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিয়ামনি,উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের
Featured Image

অর্থের অভাবে সন্তানকে চিকিৎসা করতে পারছেনা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের অসহায় বাবা হরি মহন্ত। ১৫ বছরের সংসার জীবনে ৮ বছরের এক কন্যা সন্তান তার পরিবারে। সেই সন্তানটির জীবন এখন ব্রেইন টিউমারে অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে অর্থের অভাবে। ধীরে ধীরে আরো অসুস্থ হয়ে হয়ে পড়ছে বাবা মায়ের এক মাত্র কন্যা হিয়ামনি।

এইতো কিছু দিন আগেও পিঠে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ছুটে যেতো স্কুলে। দ্বিতীয় শ্রেণির গন্ডি পার হয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে হিয়া মনি। দিনের পর দিন চিকিৎসা করেও আর সুস্থ হয়নি সে। এখন বিছানায় তার এক মাত্র সঙ্গী হয়ে পড়েছে। অসুস্থ হিয়াকে নিয়ে বাবা হরি ছুটেছেন এ ডাক্তার ও ডাক্তারের নিকট। কিন্তু জ্বর ও বমি না কমায় ছয় মাস আগে স্মরণাপন্ন হন রংপুরে এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শিশু হিয়াকে ভর্তি করানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে তার ব্রেইন টিউমার হয়েছে। পরে রেফার করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু মেয়েকে বাঁচানোর সাধ থাকলেও সামর্থ না থাকায় বাড়ির বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন কাটছে শিশুটির। হরি মহন্ত একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার জন্য পাগলের মত মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য দরকার ৪-৫ লক্ষ টাকা। কোন ভাবেই সেই টাকা সংগ্রহ করতে পারছেনা এই অসহায় বাবা।উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড় সংলগ্ন রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায় পলিথিন দিয়ে ছোট্ট একটি চালা তুলে সেখানেই করছেন চায়ের দোকান। সারাদিন দোকানে বেচা-কেনা করে লাভ হয় ৩-৪ শত টাকা। যা দিয়ে সন্তানের জন্য ওষুধ নিতে আর ঠিক মত বাজার করতে পারছেন না হরি মহন্ত। দেখা দিয়েছে পরিবারে পুষ্টি হীনতা হাত পা শুকিয়ে যাচ্ছে হিয়ামনির।

অন্য দিকে,বাসস্থান বলতে মাত্র তিন শতক জায়গার মধ্যে টিনশেড ছোট একটি ঘর। তাও আবার চালের ফুটা-ফাটা দিয়ে বৃষ্টি বাদলের দিনে ঘরের ভিতরে পানি পড়ে। বৃষ্টি আসলেই জড়িয়ে রাখতে হয় ঘরের বিছানাপত্র। যাতায়াতের একটু পথ না দেওয়ায় তাতেও ঢুকতে হয় কষ্ট করে। সবমিলিয়ে অবস্থা যখন এই, তার ওপর মেয়েটি কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা হিয়া মনির বাবা-মা।

হরি মহন্ত বলেন, প্রায় দু'বছর ধরে মেয়েটি অসুস্থ। অনেক চিকিৎসার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। মাস খানেক চিকিৎসাধীন ছিল। ব্রেইন টিউমার হওয়ায় ঢাকায় চিকিৎসা করাতে বলেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সংসারই তো চলেনা। কীভাবে ঢাকায় চিকিৎসা করাবো? এদিকে শিশু হিয়ার চিকিৎসা জন্য একাধিকবার আবেদন করার পরও সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাননি তিনি । চোঁখে সামনে অসুস্থ হিয়া মনির অবস্থা আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে।

একদিকে হিয়ামনির উন্নত চিকিৎসা, অন্যদিকে পরিবারের জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ বাসস্থান। দু'টি সংকট একসাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন হরি মহন্ত ও বিউটি রানী।

হিয়ামনির বাবা-মা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, প্রবাসী এবং দেশ-বিদেশের সহৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মানুষের সহায়তায় হিয়ামনির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে এবং পরিবারটির বসবাসের অনুপযোগী ঘরটিও মেরামত করা যাবে।

একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য সামান্য সহযোগিতাও এই পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। হিয়ামনির পরিবার এখন অপেক্ষা করছে মানবিক মানুষের সহযোগিতার।