বন্ধ করুন
হবিগঞ্জ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, বিএসএফের গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


হবিগঞ্জ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, বিএসএফের গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা


 স্বপন রবি দাশ
স্বপন রবি দাশ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
হবিগঞ্জ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, বিএসএফের গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা
হবিগঞ্জ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, বিএসএফের গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা
Featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে গুলিতে সোহাগ মিয়া (নাম) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহাগ মিয়া চিমটিবিল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গরু চোরাকারবারি সন্দেহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি নিহত হন। তবে পরিবারের এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, ঘটনার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সোহাগের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের গুলির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে। বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, চোরাকারবারিদের নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে গুলির ঘটনায় সোহাগ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, ঘটনার পর বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের অংশে ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্ত এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে সীমান্তের ভারতীয় অংশে একজন পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর পোশাক দেখে তাঁকে বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হয়। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে সোহাগ মিয়া হিসেবে শনাক্ত করেন।

পরে সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার পর চুনারুঘাট থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের চাচা আবদুল কাদির দাবি করেন, সোহাগ গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে গরু চোরাকারবারি সন্দেহে গুলি করে হত্যা করেছেন।

তবে বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ঘটনার শুরুতে বিএসএফের গুলিতে সোহাগ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের গুলিতে সোহাগ নিহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সোহাগসহ কয়েকজনের বিরোধের জের ধরে গুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় সোহাগের সঙ্গে তাঁর এক ভাইও ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে পুলিশ ও বিজিবিকে ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সোহাগ কীভাবে এবং কার গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।