শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের ঢালীকান্দী গ্রামে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মানিক মিয়া (৪৫), হাবিব (৪০) ও আলী (৩৮)। স্থানীয়দের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাতে ঢালীকান্দী এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে ওই তিনজনকে আটক করেন কয়েকজন স্থানীয় যুবক। পরে বিষয়টি সখিপুর থানায় জানানো হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর কথা বলা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ঘটনাস্থলে পুলিশ না আসায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ সময় আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ফোনে তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসায় আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করেছেন—এ বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে ‘সুমন’ নামে এক ব্যক্তির কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি চরভাগা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আজগর হাওলাদার কান্দি এলাকায় বসবাস করেন। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয়রা সহযোগিতা করে কাউকে আটক করার পরও যদি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সচেতন মহলের দাবি, মাদক নির্মূলে শুধু সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নয়, মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।