বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, ২০২৩ সালের ঔষধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। আইন অনুযায়ী ‘জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের কথা থাকলেও তা না করে উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়াই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক ফর এভিডেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি পাইনেট আয়োজিত এক জাতীয় নীতি সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সালে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকার ৩৪তম সংস্করণ হালনাগাদ করেছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫২৩টি ওষুধ রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কমিয়ে ১১৭টিতে রূপান্তর করা হয়েছে, যা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, ২০২৬ সালের এসেনশিয়াল মেডিসিন লিস্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের তুলনায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য ওষুধের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ মূল প্রবন্ধে বলেন, রোগীর জন্য ওষুধ সাশ্রয়ী রাখা এবং ওষুধশিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়। ড্রাগ রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ওষুধের নিরাপত্তা নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর দাবি জানান তারা।