যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধের ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা হলো দুটি পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তেহরান জানিয়েছে যে তারা যেমন মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না, তেমনই অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে গত মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৬৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি গত বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় উন্মুক্ত জাহাজ চলাচল চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনাটিকে সৃজনশীল বলে অভিহিত করেছেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীও তাদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের বার্তা দিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শত্রুর বাধা সত্ত্বেও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষুমন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে উপযুক্ত সময়ে শত্রুরা ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের চমক দেখতে পাবে।