রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার এবং সারাদেশে লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে শহরের ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিবি রোডে গানাসাস মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সমাবেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সিপিবি গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদজামান রব্বানী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গোলাম রব্বানী মুসা, রেবতী বর্মণ, সাদেকুল ইসলাম মাস্টার, মিতা হাসান, সুপ্রিয়া ঘোষ, যোগেশ্বর বর্মণসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষক গণপতি চক্রবর্ত্তীর পরিবারের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা সারাদেশে ঘন ঘন লোডশেডিংয়েরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কলকারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ জানান তারা।
বক্তারা গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের বিচার এবং সারাদেশে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।