গাইবান্ধা পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকশ পরিবার। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সরকারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌরসভার সরবরাহ করা পানির দেখা না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে ভোগান্তি।
পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না, গোসল, খাবার প্রস্তুতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে দূরবর্তী স্থান কিংবা বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত পানি বিল পরিশোধের আহ্বান জানানো হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, নাগরিকরা নিয়মিত পানি বিল ও পৌরকর পরিশোধ করলেও বিনিময়ে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে না কেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত মোটর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ মোটর বারবার মেরামত করে সচল করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার বিকল হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বারবার পুরোনো মোটর মেরামত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ও টেকসই মোটর স্থাপন করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। একই সঙ্গে মোটর মেরামতের পেছনে বারবার যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা যৌক্তিক ও কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, পানি সরবরাহের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তিনি জানান, এর আগে একটি মোটর মেরামত করে এনে স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পাঁচজন মিস্ত্রি দিয়ে মোটরটি পুনরায় মেরামতের কাজ চলছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাময়িকভাবে মোটর মেরামত করে পানি সরবরাহ চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা দ্রুত নতুন ও মানসম্মত মোটর স্থাপন করে সরকারপাড়াসহ পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বাসিন্দারা আরও বলেন, নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত পানি বিল ও পৌরকর আদায় করা হলে তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই পানি সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।