সাভারের একটি বৃদ্ধাশ্রমে হামলার অভিযোগ তুলে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্বেচ্ছাসেবী নাহিদ হাসান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাভার মডেল থানায় অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে দেখতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার উদ্যোগ থেকে ঘটনার সূত্রপাত
নাহিদের অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট শরণখোলার একটি সড়কের পাশে অসুস্থ ও পরিচয়হীন এক বৃদ্ধ নারীকে দেখতে পান তিনি। ওই নারীর পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা দেওয়ার পর বৃদ্ধার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে নাহিদ মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাহিদের দাবি, আশ্রয় ও সেবার বিষয়ে যোগাযোগের পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মাসিক অর্থের বিষয়টি জানানো হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর হামলার অভিযোগ
অভিযোগে নাহিদ জানিয়েছেন, ২৫ আগস্ট রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বৃদ্ধ নারীকে নিয়ে তারা সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কাছে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয় বলে তার দাবি।
একপর্যায়ে তাদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তার সঙ্গে থাকা ইলিয়াস হোসেনও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাহিদের আরও দাবি, ঘটনার সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যায়—এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাদের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগেই অভিযোগ
এর একদিন আগে, ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নাহিদ একই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বৃদ্ধ নারীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় এবং চাপ প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য নেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা
সাভার মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হবে। এরপর অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।