ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখা বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট চালু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ আগস্টের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের ফলোআপ হিসেবে এই নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানকে যারা সহায়তা করবে তারাও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যারা ইরানি তেলকে অর্থে রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি নামে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন তেহরানের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকেও এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা বা সেকেন্ডারি স্যাংশন হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। আমেরিকার বাজার ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রবেশাধিকারই হলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল শক্তির উৎস। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ভারতীয় ব্যাংকের ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও তারা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কাটসা আইন অনুমোদন করেছিল। এই আইনের আওতায় ২০১৮ সালে চীনের সামরিক বাহিনী এবং ২০২০ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে চীন ও রাশিয়ার ওপর মার্কিন প্রভাব সীমিত কারণ আমেরিকান আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরতা খুবই কম।
২০২৪ সালে ইরান অন্তত ১১২টি দেশ ও অঞ্চলের কাছে প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই বছর ইরান অন্তত ৮৭টি দেশ থেকে প্রায় ৬৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন ইরানের জাহাজে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশ কিনেছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর সমস্ত রাজস্বের উৎস বন্ধ করতে চায়। বিশ্বজুড়ে দেশগুলোকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই চাপ প্রয়োগের কৌশল সফল করা খুবই কঠিন হবে। বিশেষ করে চীন যদি ইরানি তহবিল প্রক্রিয়াকরণের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে তবে তারাও পাল্টা আঘাত হানতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে অন্তত ৬০টি সংস্থাকে এই সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।