নরসিংদীতে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যার একটি বড় অংশ বস্ত্র, ডাইং, সাইজিং, স্পিনিং ও তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কারখানা সরাসরি গ্যাসনির্ভর এবং স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য এসব কারখানায় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট শুরু হওয়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
চৌয়ালা শিল্পাঞ্চলের মোমিন টেক্সটাইল মিলের ১০টি ইউনিটের মধ্যে সাতটিই গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এবং কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ লাখ গজ থেকে কমে প্রায় ২০ হাজার গজে নেমেছে। শুধু নরসিংদী নয়, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে দেশের শিল্প খাত এক অভূতপূর্ব বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে যেখানে কোথাও কারখানা বন্ধ আবার কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি গ্যাস সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ইস্পাত উৎপাদন খাত এবং বড় কারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ রি-রোলিং মিলের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিএসআরএমের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সচল রাখতে ফার্নেস অয়েল ও লাইট ডিজেল ওলের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে যা গ্যাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত ব্যয়বহুল।
চট্টগ্রামের মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় কেএসআরএম, জিপিএইচ ইস্পাত, এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাতের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন স্থগিত বা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান জ্বালানি সংকট এমন এক সময়ে এসেছে যখন শিল্পটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলার সংকটের কারণে তৈরি হওয়া আগের কয়েক বছরের আর্থিক চাপ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি।
সংকট মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল মিলস প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ধানের তুষ ব্যবহার করে গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতিতে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন করে তাদের ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। তবে এই বহুমুখী সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।