যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেবে, ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস বহু দশকের পুরনো, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই শুরু হয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৯৫ সালে নির্বাহী আদেশে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই সংঘাতে চরম বিপাকে পড়েছে। তারা ওয়াশিংটনের মিত্র হলেও ভৌগোলিক কারণে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য। চীন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যস্থতায় অতীতে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে চলমান সংকট নিরসনে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপের মধ্যে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সহযোগিতা না করলে স্বার্থে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মজুত কম থাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত উভয় পক্ষের জন্যই আকর্ষণীয় নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো অতীতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন সময়ে ইরানের ওপর বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।