ঢাকার সবুজবাগে উদ্ধার হওয়া তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাতের পরিচয় মিলেছে। দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীকে শনাক্ত করেন তাঁর মা-বাবা। মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
গত ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানার বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচ থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এসআই রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকি আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ডে যাওয়া পাঁচ আসামি হলেন নুসরাত জাহান সাহিদা, ফারুক ওরফে জামাই ফারুক, মো. সুজন, মামুন ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আসামিদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মোমিন হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার আগের সিসিটিভি ভিডিওতে ৩ আগস্ট রাতে ভুক্তভোগীসহ আসামিদের বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর একসঙ্গে দেখা যায়। পরে আসামিরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তারদের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।