প্রিন্ট: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ এএম প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম আরও পড়ুন এই ধর্মপ্রাণ ইংরেজ খ্রিস্টান ভদ্রলোকের ধারণা ছিল যুগপদ ইংরেজি ও নানাবিধ দেশীয় ভাষার ভিতে প্রতিষ্ঠিত নতুন শিক্ষানীতির দৌলতে কালের নিয়মে ভারতবর্ষ একদিন পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়িয়া তুলيبه, যাহার ফজলে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের অধিকারী ছাত্রগণ যথাসময়ে সরকারি চাকরিতে অভিষিক্ত হইবেন। ট্রিবেলিয়নের আরও ধারণা ছিল ভারতের প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ীরা অভিজাত শ্রেণীর প্রতিনিধি, তাঁহারা চাহেন না শিক্ষাদীক্ষার প্রসার সর্বজনীন হয়। অধিক কি, ইংরেজি শিক্ষার কল্যাণে সারা এশিয়া মহাদেশ একদিন খ্রিস্টধর্মের অনুসারী হইয়া উঠিবে, মনে এই আশাও তিনি পুষিতেন।
১৮৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত বাছাই কমিটির সদস্যদের সম্মুখে উপস্থিত প্রশ্নটা ছিল এইরকম : ১৮১৩ সালের সনদ আইনে প্রস্তাবিত ‘সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন ও উন্নতিসাধন’ কথাটার তাৎপর্য কি। ইহার অর্থ কি সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষণ নয়? সেইদিন ঐ কমিটিতে প্রাচ্যবিদ্যার পক্ষে আওয়াজ তোলা হইয়াছিল, সংস্কৃত বিদ্যা কিংবা আরবি-ফারসি শিক্ষার আয়োজনে কোন উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটিলে, তাঁহারা সাবধান করিয়াছিলেন, ১৮১৩ সালের সনদ আইনের অবমাননা করা হইবে। ঘটনা এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, ১৮৩৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ, সক্রেটিস শাসনের কলিকাতাস্থ সর্বোচ্চ কৌন্সিল সদস্যদের অন্যতম টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ইংরেজিপন্থী যুক্তির পক্ষে তাঁহার মশহুর প্রস্তাব বা ‘মিনিট’টি রচিয়াছিলেন।
সলিমুল্লাহ খান : অধ্যাপক, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (লেখকের বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে) দুঃখের মধ্যে, প্রায় একশ বছর পার হইতে চলিল, আমরা দুই দুইবার স্বাধীনতার স্বাদ পাইলাম। তাহার পর, আবার তাহার পর, আমাদের দেশে বারো বছরের বুনিয়াদি শিক্ষা স্থগিত থাকুক, এমন কি পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষাও সর্বজনীন হয় নাই। বলা বাহুল্য আমাদের প্রতিবেশী ভারত আর পাকিস্তানও এই নিয়মের অতিক্রম নয়। ইহার কারণ শুদ্ধমাত্র শাসক ইংরেজের স্বার্থপরতা আর সংকীর্ণ চরিত্র বিশ্লেষণে মিলিবে না।