বন্ধ করুন
অভিযোগের পরেও চলছে বালু ব্যবসা, দুই বছরেও বন্ধ হয়নি দখল-বাণিজ্য
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ২৯ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


অভিযোগের পরেও চলছে বালু ব্যবসা, দুই বছরেও বন্ধ হয়নি দখল-বাণিজ্য


মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ
মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ উপজেলা প্রতিনিধিঃ সুন্দরগঞ্জ
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
অভিযোগের পরেও চলছে বালু ব্যবসা, দুই বছরেও বন্ধ হয়নি দখল-বাণিজ্য
অভিযোগের পরেও চলছে বালু ব্যবসা, দুই বছরেও বন্ধ হয়নি দখল-বাণিজ্য
Featured Image

গাইবান্ধা শহরের নিউ ব্রিজ সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধের জায়গা দখল করে বছরের পর বছর বালু ব্যবসা চললেও এর কার্যকর প্রতিকার কোথায়—এ প্রশ্ন এখন গাইবান্ধাবাসীর।

২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সরকারি জমি দখল করে বালু মজুদ ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ভারী যানবাহনের কারণে শহর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।

অভিযোগ,সতর্কবার্তা ও নোটিশ—সবই হয়েছে। কিছু সময়ের জন্য ব্যবসা বন্ধও ছিল। কিন্তু আবারও একই এলাকায় শুরু হয়েছে বালু মজুদ ও বিক্রি। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যদি একই ব্যবসা আবার প্রকাশ্যে ফিরে আসে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে?

স্থানীয়দের অনেকেরই প্রশ্ন, প্রশাসনের চোখের সামনে সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে এত বড় পরিসরে বালুর ব্যবসা কীভাবে সম্ভব? সত্যিই কি সবকিছু ম্যানেজ করেই চলছে?

অবশ্য ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই পরিষ্কার হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—২০২৪ সালে পাউবোর লিখিত অভিযোগের পরও ২০২৬ সালে একই এলাকায় বালু ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয়, গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ বর্তমানে এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি বছরের জুনে টানা বৃষ্টি ও নদীর স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধসের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় বাঁধসংলগ্ন সরকারি জায়গায় বালুর স্তূপ, ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং কথিত অবৈধ বালু ব্যবসা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা বা বাঁধের বড় ধরনের ক্ষতি হলে এর দায় নেবে কে?

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়—বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে, পাউবোর লিখিত অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কার গাফিলতি বা প্রশ্রয়ে ব্যবসাটি বারবার ফিরে আসছে।

দীর্ঘদিন ধরে যদি অভিযোগ, নোটিশ ও প্রশাসনিক তৎপরতার পরও একই জায়গায় একই ব্যবসা চলতে থাকে, তাহলে ম্যানেজ করার অভিযোগটি নিছক গুঞ্জন, নাকি এর পেছনে সত্যিই কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—এখন সেটিই তদন্তের বিষয়।

গাইবান্ধাবাসীর দাবি,প্রশাসন দ্রুত এ প্রশ্নের জবাব দিক এবং শহর রক্ষা বাঁধ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দৃশ্যমান ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।